মার্চ ২৮: গতকাল (শুক্রবার) সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে ‘বোয়াও এশিয়া ফোরাম ২০২৬’-এর বার্ষিক সম্মেলন। এবারের ফোরামটি নতুন পরিস্থিতি ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বিশ্বজুড়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষ করে চীনের ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’ এবং হাইনানের শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা প্রতিনিধিদের আলোচনার মূল কেন্দ্রে ছিল।
রোল্যান্ড বার্জার-এর গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট কমিটির কো-প্রেসিডেন্ট ডেনিস ডিপু বলেন, “চীনের পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা। এটি আমাদের চীনের বাজারের প্রতি প্রতিশ্রুতি আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করছে।”
এসিডব্লিউএ পাওয়ার-এর প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আবুনায়ান জানান, “আমরা বিশ্বাস করি সমুদ্রের পানি লবণমুক্তকরণ চীনের পানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি ‘পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা’র একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই পরিকল্পনায় অত্যন্ত স্পষ্ট রোডম্যাপ দেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য খুব পরিষ্কার: ২০৩০ সালের মধ্যে চীনে অন্তত ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা, যা সম্ভবত আরও বাড়বে। আমরা এই বিষয়ে পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী।”
ইতালির অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপমন্ত্রী মিশেল গেরাছি বলেন, “আমরা ইতালীয় পণ্যগুলো শুল্কমুক্ত সুবিধায় হাইনানে রপ্তানি করতে পারি এবং সেগুলো দ্বীপের ভেতরে বিক্রি করা সম্ভব। যদি কোনো পণ্য হাইনানে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ৩০% বা তার বেশি মূল্য সংযোজন করতে পারে। তবে সেই পণ্যগুলো কোনো শুল্ক ছাড়াই চীনের মূল ভূখণ্ডের অন্যান্য অঞ্চলে প্রবেশ করতে পারবে। এটি ইউরোপীয় বিশেষ করে ইতালীয় কোম্পানিগুলোর জন্য একটি অমূল্য সুযোগ।”
এপেকের সচিবালয়ের নির্বাহী পরিচালক এডুয়ার্ডো পেড্রোসা বলেন, “এ বছর আমরা এপেকের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি এবং এই পর্যায়ে আমাদের করণীয় কী তা নিয়ে ভাবছি। বর্তমানে সবাই বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি তেলের দামের অনিশ্চয়তা নিয়ে চিন্তিত। সৌর প্যানেল স্থাপন আপনাকে বিকল্প জ্বালানির সুবিধা দেবে। তাই এটি চীন এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির একটি চমৎকার সুযোগ।”
(শুয়েই/তৌহিদ/জিনিয়া)