সিজিটিএন জরিপ: মার্কিন ‘যুদ্ধনীতি’ আমেরিকাকে বিশ্বজুড়ে বিচ্ছিন্ন করছে

সিজিটিএন জরিপ: মার্কিন ‘যুদ্ধনীতি’ আমেরিকাকে বিশ্বজুড়ে বিচ্ছিন্ন করছে

চীনের আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিজিটিএন পরিচালিত এক বৈশ্বিক জরিপে দেখা গেছে, উত্তরদাতাদের ৮৯.৬ শতাংশ মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইরান ইস্যুতে যুদ্ধের নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক সমাজে আরও গভীর বিচ্ছিন্নতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শুক্রবার ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস সম্প্রতি জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালী এখন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ইরানে যুদ্ধের পরিস্থিতি আবার তীব্র হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থায় (আইএমও) ইরানের উপ-প্রতিনিধি পোরিয়া কোলিওয়ান্দ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর সামরিক হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের ১,৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত, ২২,৮০০ জন আহত, প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং ৮১ হাজারের বেশি অবকাঠামো ও গণ-স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৯২.৪ শতাংশ উত্তরদাতা এই সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।

যুদ্ধ শুরুর সময়, "একদিকে আলোচনার প্রস্তাব, অন্যদিকে মুষ্টিবদ্ধ রাখা" মার্কিন নীতি চরম চাপ প্রয়োগের কৌশলকে প্রান্তসীমায় পৌঁছে দেয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র পুরানো সেই কৌশল পুনরায় প্রয়োগের পরিকল্পনা করছে। একদিকে ইরানের কাছে ১৫টি শর্ত সম্বলিত যুদ্ধাবসানের একটি প্রস্তাব দিয়েছে, অন্যদিকে হাজার হাজার মেরিন ও নৌবাহিনীর সদস্যকে মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত মোতায়েন করছে।

জরিপে আরও উঠে এসেছে যে, ৮৮ শতাংশ উত্তরদাতা মার্কিন নীতিকে সরাসরি ‘সামরিক বলপ্রয়োগের কৌশল’ হিসেবে দেখছেন এবং সংঘাত বন্ধে দেশটির আন্তরিকতার অভাব রয়েছে বলে মনে করেন। ৯৪.২ শতাংশ উত্তরদাতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।

যুদ্ধের ভবিষ্যত্ গতিপথ এখনও স্পষ্ট নয়, কিন্তু এর বিভিন্ন প্রভাব ইতিমধ্যে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। মিত্র দেশগুলোকে "নাম ধরে" কনভয়ে যোগ দেওয়ার আহ্বান দুই পক্ষের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আবার আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে সারা বিশ্বকে প্রভাবিত করছে। এ বিষয়ে ৮৮.২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রতিদিন প্রায় ৮৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যুদ্ধব্যয় চলছে। ক্রমাগত বাড়তে থাকা জ্বালানি তেলের দাম যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে তুলছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধবিরোধী মনোভাব। ৮৮.৫ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, এই যুদ্ধ মার্কিন অভ্যন্তরীণ সমাজকেও বিভক্ত করছে। ৮৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, যুদ্ধবিরোধী মনোভাবের কারণে আসন্ন নির্বাচনে স্বতন্ত্র ভোটাররা শাসক দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে।

সামরিক শক্তি কখনোই আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির সঠিক উপায় নয়, এটি কেবল ঘৃণা ও সংঘাতকে আরও উসকে দেয়। ৬৫ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে একমত হয়ে মনে করেন, বর্তমানে সবচেয়ে জরুরি হলো যুদ্ধ বন্ধ করা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উত্তেজনা প্রশমন করা।

এই জরিপটি সিজিটিএন-এর ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফরাসি, আরবি ও রুশ প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত হয়, যেখানে ১৩,৭৩১জন নেটিজেন অংশ নেন।

(জিনিয়া/তৌহিদ/তুহিনা)

Rate This Article

How would you rate this article?

মাহফুজ রহমান

মাহফুজ রহমান

ডেস্ক সম্পাদক

৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা ও লেখালেখি করছেন।

Our Editorial Standards

We are committed to providing accurate, well-researched, and trustworthy content.

Fact-Checked

This article has been thoroughly fact-checked by our editorial team.

Expert Review

Reviewed by subject matter experts for accuracy and completeness.

Regularly Updated

We regularly update our content to ensure it remains current.

Unbiased Coverage

We strive to present balanced information.