বিশ্বব্যাপী দুর্বল অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পরিস্থিতির মধ্যেও চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে চীন-ইউরোপ রেলওয়ে এক্সপ্রেসের সাফল্যের খতিয়ান বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। এ সময়ে মোট ৩,৫০১টি ট্রেন পরিচালনা করে ৩ লাখ ৫২ হাজার টোয়েন্টি-ফুট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিট (টিইইউ) পণ্য পরিবহন করা হয়েছে; যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যথাক্রমে ৩২% ও ২৫% বেশি।
চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কের (সিজিটিএন) উদ্যোগে পরিচালিত বিশ্বব্যাপী নেটিজেনদের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৮৮.৮% উত্তরদাতা মনে করেন চীন-ইউরোপ ট্রেন উচ্চস্তরের উন্মুক্তকরণ এবং উন্মুক্ত বিশ্ব অর্থনীতি নির্মাণে চীনের দৃঢ় সংকল্পের প্রকাশ।
ইউরেশীয় মহাদেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘সেতু’ হিসেবে চীন-ইউরোপ ট্রেন পরিবহনে সমুদ্রপথের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সময় লাগে এবং খরচ হয় আকাশপথের মাত্র এক-পঞ্চমাংশ। জরিপের ৯১.২% উত্তরদাতা মনে করেন, এই ট্রেন চলাচল আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনের দক্ষতা বাড়িয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ব্যয় হ্রাস করেছে। ৯১.৮% মানুষ বলেছেন যে, এটি চীন-ইউরোপ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতার জন্য একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। এ ছাড়া ৮২.৭% উত্তরদাতা মনে করেন, এই ট্রেনগুলো বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে টেকসই গতি সঞ্চার অব্যাহত রাখবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চীন-ইউরোপ ট্রেনগুলো চীনের ১২৮টি শহরকে সংযুক্ত করেছে। এটি ১১টি এশিয়ান দেশ ও অঞ্চলের ১০০টিরও বেশি শহরের মধ্য দিয়ে গিয়ে ২৬টি ইউরোপীয় দেশ ও অঞ্চলের ২৩২টি শহরে পৌঁছেছে। সমীক্ষায় ৮৪.৯% উত্তরদাতা মনে করেন, এটি চীন এবং ইউরেশীয় দেশগুলোর মধ্যে বহুমুখী যোগাযোগকে শক্তিশালী করেছে। ৯৩.৭% উত্তরদাতার মতে, এই ট্রেনগুলো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের বিশাল বাজারের সুবিধা ও সম্ভাবনাকে আরও উন্মুক্ত করবে।
জরিপটি সিজিটিএনের ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফরাসি, আরবি ও রাশিয়ান প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হয়েছিল। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মোট ৯,১২৮জন নেটিজেন এতে ভোট দিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন।
লিলি/তৌহিত/রুবি