গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নির্মাণাধীন নতুন একটি পোল্ট্রি ফার্মের ডেউটিন ও লোহার এঙ্গেল চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় কামারগাঁও গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে পোল্ট্রি ফার্মের মালিক মো: ইকবাল হোসেন (৪২) কাপাসিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। গত ৩১ মার্চ দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের কামারগাঁও গ্রামে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পোল্ট্রি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি নতুন করে ইকবাল তার ক্রয়কৃত জমিতে একটি পোল্ট্রি ফার্ম নির্মাণকাজ চলমান। নির্মাণ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সকল মালামাল ফার্মেই রাখা হয়।
আরো জানা যায়, গত ৩০ মার্চ বিকেল পাঁচটার দিকে স্তুপ করে রাখা মালামাল দেখিয়া বাড়িতে চলে যাই। পরবর্তীতে ৩১ মার্চ সকাল নয়টার দিকে ফার্মে গিয়ে দেখা যায় পোল্ট্রি ফার্মে থাকা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের আবুল খায়ের গ্রুপের পিএইচপি ব্র্যান্ডের ২৫ ভান ঢেউটিন ও আনুমানিক ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ২০/২২ টি লোহার এঙ্গেল যথাস্থানে নেই। পোল্ট্রি ফার্মের আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ফার্ম নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত উল্লেখিত মালামাল পাওয়া যায়নি। অজ্ঞতানামা চোরচক্র হয়তো দিন কিংবা রাতের মধ্যবর্তী কোন একটা সময়ে ফার্মে প্রবেশ করে মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। এতে করে খামারীর প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতিসাধণ হয়েছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা যায়।
খামারির শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতিই নয় তার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে।
নির্মাণাধীন ফার্মের দেখভালের দায়িত্বে থাকা মো: আবুল হোসেন বলেন, আমি নিজে ২২৫ পিস টিন ক্রয় করে এনে পোল্ট্রি ফার্মে রেখে দেই। পরদিন সকালে ফার্মে এসে দেখি নতুন ঢেউটিন ও লোহার এঙ্গেল নেই। তাৎক্ষণিকভাবে মালিকের কাছে ফোনে বিষয়টি জানাই।
এলাকার স্থানীয় কয়েকজন জানান, ইকবাল দীর্ঘদিন ধরেই পোল্ট্রি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এছাড়াও সে একজন ভালো মানুষ। কখনো দেখিনি তাকে কারো সঙ্গে বিবাদে জড়াতে।
এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পোল্ট্রি ব্যবসায়ী মো: ইকবাল হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরেই আমি পোল্ট্রি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমি স্থানীয় মৃত বাতেন মাস্টারের কাছ থেকে জমি ক্রয় করে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছি।
তবে একই এলাকার বুরুজ আলী ফকিরের ছেলে বিল্লাল হোসেন থানায় অভিযোগ করে দাবী করে আসছে আমার ক্রয়কৃত জমি নাকি তার। অভিযোগের পর পুলিশ এসে কাজ বন্ধ করে রাখতে বলে। এতে করে বেশ কিছুদিন ফার্মের কাজ বন্ধ ছিলো।
পরবর্তীতে আমার ক্রয়কৃত নিজস্ব জমিতে পুনরায় কাজ শুরু করি। অজ্ঞাতনামা চোরের দল নির্মাণাধীন ফার্মের ভেতর থেকে মালামাল চুরি করে অন্যত্র নিয়ে যায়।
তিনি আরো জানান, আমি সন্দেহ করছি যে ব্যক্তি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে আমার ফার্মের কাজ বন্ধ করিয়েছে ঐ ব্যক্তিই চুরির সাথে জড়িত। বিল্লালের বাড়ি ফার্মের পাশেই। এতে করে আমার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং ফার্মের চলমান কাজ বন্ধ রয়েছে। এ ব্যাপারে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে যেন প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আবুল কাশেম মীর জানান, ঘটনা ঘটেছে এটা সত্য। আমি ঘটনাস্থলে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে যেন প্রকৃত অপরাধীরা শনাক্ত হয়।
এ বিষয়ে কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম মুঠোফোনে জানান, যেহেতু লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের দায়িত্বে থাকা অফিসার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।