মার্চ ১৫, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: চীনে স্বল্প উচ্চতায় ড্রোন ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকা ও শহরের ব্যস্ত এলাকায় এই প্রযুক্তি ডেলিভারি ব্যবস্থাকে দিচ্ছে এক নতুন রূপ।
দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ছোংছিংয়ের চিয়েশি টাউনে সম্প্রতি আট প্রপেলারযুক্ত একটি কোয়াডকপ্টার ড্রোন কুরিয়ার স্টেশনের সামনে নেমে পণ্য সরবরাহ করে।
ড্রোনটির অপারেটর লি হাইথাও জানান, পাহাড়ি ১৩ কিলোমিটার আঁকাবাঁকা সড়ক পথে গাড়িতে যেতে অন্তত ২৫ মিনিট সময় লাগে। কিন্তু এই ড্রোন মাত্র ৮ মিনিটেই সেই পথ অতিক্রম করতে পারে।
চীনের লজিস্টিক কোম্পানি জেডি লজিস্টিকস এখন ছোংছিংসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোনের মাধ্যমে পার্সেল ডেলিভারি পরিচালনা করছে। বসন্ত উৎসবের ছুটির পর ব্যবসা শুরু হওয়ায় পার্সেলের সংখ্যা আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে।
কোম্পানিটি ইতোমধ্যে চিয়াংসু, ছিংহাই ও হাইনানসহ মোট ৯টি প্রদেশে ড্রোন ডেলিভারি চালু করেছে। দেশজুড়ে তাদের প্রায় ৫০টি ড্রোন ডেলিভারি রুট রয়েছে।
চীনে ‘লো-অ্যালটিটিউড ইকোনমি’ বা স্বল্প উচ্চতার আকাশ অর্থনীতি দ্রুত বিকাশ লাভ করছে। তথ্য অনুযায়ী, এখন চীনে ড্রোন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৬ হাজারের বেশি। চীনের বেসামরিক এভিয়েশন প্রশাসন পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে এই খাতের বাজারমূল্য সাড়ে তিন ট্রিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছাতে পারে।
শুধু পাহাড়ি এলাকায় নয়, নদীপথেও শুরু হয়েছে ড্রোন ডেলিভারি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইয়াংজি নদীর নানচিং অংশে জলপথে ড্রোনভিত্তিক লজিস্টিকস পরিচালনার জন্য প্রথম নিরাপত্তা নির্দেশিকা জারি করা হয়। সেখানে তীর থেকে জাহাজে ড্রোনের মাধ্যমে চা ও নাশতা পাঁচ মিনিটেরও কম সময়ে পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছে।
এদিকে উত্তর চীনের গ্রেট ওয়াল পর্যটন এলাকায়ও ভিজ্যুয়াল নেভিগেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পর্যটকদের কাছে সরাসরি খাবার পৌঁছে দিচ্ছে ড্রোন।
ছোংছিংয়ের লিয়াংচিয়াং নিউ এরিয়ায় ছোংছিং ফেইখুয়াই নেভিগেশন টেকনোলজির ড্রোনগুলো কফিসহ বিভিন্ন পণ্য বহন করছে। এসব ড্রোনে বিশেষ কার্গো বক্স, নির্দিষ্ট ল্যান্ডিং প্ল্যাটফর্ম এবং দূরনিয়ন্ত্রণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি ড্রোন প্রায় ১০ কেজি পণ্য বহন করতে পারে এবং ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে সক্ষম।
কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, এসব ড্রোনে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি, ব্যাকআপ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও জরুরি প্যারাস্যুট রয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেও নিরাপদে অবতরণ করা যায়।
চীনে স্বাস্থ্যসেবাতেও এ প্রযুক্তি এখন ব্যবহারের পরিকল্পনা চলছে। স্থানীয় একটি হাসপাতালের সঙ্গে যৌথভাবে ড্রোনের মাধ্যমে রক্ত, পরীক্ষার নমুনা ও জরুরি ওষুধ দ্রুত পরিবহনের ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে।
ফয়সল/নাহার
তথ্য: চায়না ডেইলি ছবি: সিনহুয়া