যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্ক সুস্থ, স্থিতিশীল ও টেকসই রাখা জরুরি

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্ক সুস্থ, স্থিতিশীল ও টেকসই রাখা জরুরি

মার্চ ১৫: চীন-যুক্তরাষ্ট্র নতুন দফার বাণিজ্য আলোচনা শিগগিরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ধীরগতি এবং জটিল ও অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মাঝে আন্তর্জাতিক সমাজ আশা করছে—চীন ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের দিকে এগিয়ে আসবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য সহযোগিতার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও নিশ্চয়তা ও স্থিতিশীলতা সঞ্চারিত হবে।

গত বছর থেকে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ব্যক্তিগত উদ্যোগে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সুষ্ঠু সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। এটি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উন্নতি ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নিশ্চয়তা প্রদান করেছে এবং নানামুখী ওঠানামা সত্ত্বেও সম্পর্ককে সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করেছে।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে পাঁচ দফার বাণিজ্য আলোচনা সম্পন্ন করেছে এবং ধারাবাহিকভাবে ইতিবাচক ফলাফল অর্জন করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র নামক এই দুটি 'মহাজাহাজ'কে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হলে এবং পথভ্রষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করতে হলে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের কৌশলগত দিকনির্দেশনা অটলভাবে মেনে চলতে হবে। তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য বাস্তবায়নে কোনো ঘাটতি রাখা যাবে না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক কল্যাণকর সহযোগিতার নীতি দৃঢ়ভাবে মেনে চলতে হবে। দুই পক্ষেরই উচিত সমান আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য নিয়ন্ত্রণ করা, বাস্তবসম্মত সহযোগিতা প্রসারিত করা এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কের সুস্থ, স্থিতিশীল ও টেকসই উন্নয়ন বজায় রাখা।

পূর্ববর্তী পাঁচ দফার বাণিজ্য আলোচনার ফলাফল প্রমাণ করে, উভয় পক্ষ যদি সমতা, শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক কল্যাণের চেতনা ধারণ করে সমান সংলাপ ও আলোচনায় বসে, তবে বাণিজ্যিক মতপার্থক্য সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। সাম্প্রতিক কুয়ালালামপুর আলোচনায় উভয় পক্ষ বেশ কিছু ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এর মধ্যে চীনের মেরিটাইম লজিস্টিকস ও জাহাজ নির্মাণ শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের '৩০১ ধারা' প্রয়োগ, সমান শুল্ক স্থগিত করার মেয়াদ বৃদ্ধি, ফেন্টানিল সংক্রান্ত শুল্ক ও আইন প্রয়োগে সহযোগিতা, কৃষিপণ্য বাণিজ্য এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরপর থেকে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দল বিভিন্ন স্তরে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছে। বুসান বৈঠকে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের ঐকমত্য এবং কুয়ালালামপুর আলোচনার ফলাফল বাস্তবায়নের পাশাপাশি বাণিজ্য ক্ষেত্রে একে অপরের উদ্বেগ সমাধানে তারা নিয়মিত মতবিনিময় করেছে।

চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে পুঞ্জীভূত কাঠামোগত দ্বন্দ্ব ও গভীর মতপার্থক্য একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। এ বছরের শুরু থেকেই কিছু নতুন প্রবণতা দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে, তারা ১২২ ধারা অনুযায়ী সব দেশ ও অঞ্চল থেকে আসা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত আমদানি ফি আরোপ করবে। এরপর "অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা" এবং "জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ না করার" অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র যথাক্রমে চীনসহ ১৬টি এবং ৬০টি অর্থনীতি সত্ত্বার বিরুদ্ধে '৩০১ তদন্ত' শুরু করেছে। এটি বিশ্ববাণিজ্যের অনিশ্চয়তাকে আবারও বাড়িয়ে দিয়েছে। চীন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপগুলো সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করছে। নিজস্ব বৈধ স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার চীনের রয়েছে। আসন্ন বাণিজ্য আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জনের মূল চাবিকাঠি হলো—যুক্তরাষ্ট্র চীনের প্রতি যুক্তিবাদী ও বাস্তবসম্মত ধারণা পোষণ করে কি না এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক কল্যাণকর সহযোগিতার নীতি অনুসরণ করে চীনের দিকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসে কি না।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে "সহযোগিতায় উভয়ের মঙ্গল, সংঘাতে উভয়ের ক্ষতি"—এটি বারবার প্রমাণিত একটি সত্য। দুই দেশের "পারস্পরিক সাফল্য ও একত্রে সমৃদ্ধি" একটি দৃশ্যমান ও স্পষ্ট বাস্তব চিত্র। নতুন দফার বাণিজ্য আলোচনা একদিকে যেমন একটি সুযোগ, অন্যদিকে এটি একটি পরীক্ষাও। উভয় পক্ষেরই বৃহত্তর প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা উচিত। সহযোগিতার মাধ্যমে অর্জিত দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার দিকে নজর দেওয়া, সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মনোভাব পোষণ করা, সহযোগিতার তালিকা দীর্ঘ করা এবং সমস্যার তালিকা সংক্ষিপ্ত করা জরুরি। আরও ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জনের চেষ্টার মাধ্যমে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জন্য নতুন সহযোগিতার দ্বার উন্মুক্ত করা এবং দুই দেশ ও বিশ্বের জনগণের জন্য বৃহত্তর কল্যাণ বয়ে আনাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

(স্বর্ণা/তৌহিদ/লিলি)

 维护中美经贸关系健康、稳定、可持续发展

新一轮中美经贸磋商在即。在全球经济复苏乏力、国际局势变乱交织的当下,国际社会普遍期待中美相向而行,为两国经贸合作与世界经济注入更多确定性和稳定性。

去年以来,两国元首身体力行,在最高层次上保持了良好交往,为中美关系的改善发展提供了重要战略保障,也推动中美关系历经跌宕起伏实现了总体稳定。

中美双方已先后开展五轮经贸磋商,取得一系列积极成果,充分证明确保中美这两艘巨轮共同前行,不偏航、不失速,就必须坚持两国元首的战略引领不动摇,坚持落实两国元首重要共识不打折扣,坚持相互尊重、和平共处、合作共赢的原则不放松。双方应共同落实好、维护好两国元首共识,通过平等协商,妥善管控分歧,拓展务实合作,维护中美经贸关系健康、稳定、可持续发展。

此前五轮经贸磋商取得的成果还证明,只要双方秉持平等、尊重、互惠的精神,通过平等对话磋商,就能够找到解决经贸分歧的办法。在最近一次的吉隆坡磋商中,双方围绕美对华海事物流和造船业301措施、延长对等关税暂停期、芬太尼关税和执法合作、农产品贸易、出口管制等达成了一系列成果共识,此后中美经贸团队通过经贸磋商机制在各层级保持密切沟通,就落实两国元首釜山会晤共识和吉隆坡经贸磋商成果、解决彼此经贸领域关切及时交换意见。

解决中美经贸关系中长期积累的结构性矛盾和深层次分歧不可能一蹴而就。今年以来,又出现一些新的动向。美方宣布根据122条款对来自所有国家和地区的商品加征进口附加费。此后,美方又相继以“产能过剩”和“未禁止进口强迫劳动产品”为由,分别对包括中国在内的16个经济体和60个经济体发起301调查,令全球贸易不确定性再度上升。中方正密切关注并将全面评估美方相关举措,将保留采取一切必要措施的权利,坚决捍卫自身合法权益。即将开启的新一轮经贸磋商能否取得积极进展,关键在于美方能否秉持对华理性务实的认知,按照相互尊重、和平共处、合作共赢的原则,在行动上切实做到与中方相向而行。

中美“合则两利、斗则俱伤”是经过实践反复验证的常识,中美“相互成就、共同繁荣”是看得见、摸得着的实景。新一轮经贸磋商是机遇也是考验。双方应该算大账,多看合作带来的长远利益,秉持平等、尊重、互惠态度,拉长合作清单、压缩问题清单,争取更多积极进展,为中美关系打开新的合作空间,更好造福两国人民和世界人民。

Rate This Article

How would you rate this article?

এম রহমান

এম রহমান

More than 3 years experience on reporting in various fields.

Our Editorial Standards

We are committed to providing accurate, well-researched, and trustworthy content.

Fact-Checked

This article has been thoroughly fact-checked by our editorial team.

Expert Review

Reviewed by subject matter experts for accuracy and completeness.

Regularly Updated

We regularly update our content to ensure it remains current.

Unbiased Coverage

We strive to present balanced information.