কল্পবিজ্ঞানের সিনেমা এখন বাস্তব। বেইজিংয়ের রাজপথে মানুষের পাশাপাশি এবার পাল্লা দিয়ে দৌড়াবে দুই পা বিশিষ্ট হিউম্যানয়েড রোবট। আগামী ১৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশেষ হাফ-ম্যারাথনকে সামনে রেখে গত রোববার রোবটগুলো তাদের প্রথম অনুশীলন দৌড় সম্পন্ন করেছে। এর মধ্য দিয়ে ক্রীড়া ও প্রযুক্তির এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে চীন।
এবারের প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো রোবটগুলোর ‘স্বয়ংক্রিয়’ ক্ষমতা। গত বছর রোবটগুলো মানুষের মাধ্যমে রিমোট কন্ট্রোলে নিয়ন্ত্রিত হলেও, এবার তারা চলবে নিজস্ব বুদ্ধিমত্তায়। ডিজিটাল ম্যাপ এবং উন্নত সেন্সর ব্যবহার করে রোবটগুলো নিজেরাই পথ চিনে নেবে এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দৌড়াবে। বেইজিং ইকোনমিক-টেকনোলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এরিয়াতে হতে যাওয়া এই ইভেন্টে ২০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল এবং প্রযুক্তি কোম্পানি অংশ নিচ্ছে।
এবারের হাফ-ম্যারাথনের পথটি বেশ চ্যালেঞ্জিং। শহরের ঢালু রাস্তা, উঁচু-নিচু ভূমি এবং পার্কের আঁকাবাঁকা পথ দিয়ে সাজানো হয়েছে ২১ দশমিক ০৯৭৫ কিলোমিটারের এই রুট। রোবটগুলো কতটা ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে এবং কত দ্রুত পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে পারে তা যাচাই করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে মানুষ এবং রোবট একই রুটে দৌড়ালেও তাদের জন্য থাকছে আলাদা ট্র্যাক। দুই ট্র্যাকের মাঝে থাকছে মজবুত গার্ডরেল বা বিভাজক।
২০২৫ সালের স্মৃতি এখনও সবার চোখে আটকে আছে। গত বছরের ১৯ এপ্রিল ‘থিয়ানকং আল্ট্রা’ নামের একটি রোবট মাত্র ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে হাফ-ম্যারাথন শেষ করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। বেইজিং হিউম্যানয়েড রোবট ইনোভেশন সেন্টারের তৈরি এই রোবটটি এবারও আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে।
নাহার/হাশিম
তথ্য ও ছবি- সিসিটিভি।